Search News BD

উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার



ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে সুস্থ শিশুদের পাশাপাশি ছোট ও অসুস্থ শিশুদের বাঁচাতে হবে শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী তিন বছরের মধ্যে লন্ডনের জিপি মডেলের আদলে দেশে একটি শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এ পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এই স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর থাকবে রেফারেল সিস্টেম। ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসায় রোগী সুস্থ না হলে রোগীদের দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হবে।


প্রসূত মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যেন দৌড়াতে না হয়। প্রসূতি মা ও নবজাতকের সব ধরনের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কি-নোট উপস্থাপনায় বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুহারের বর্তমান চিত্র, প্রি-টার্ম বা অপরিণত শিশু জন্মের ক্রমবর্ধমান চাপ, এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সেবার সীমাবদ্ধতা, হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং ব্যবস্থার অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং সমন্বিত জরুরি নবজাতক রেফারেল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর একটি বড় অংশই নবজাতক। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবজাতক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক প্রি-টার্ম ও কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করে। তাদের একটি বড় অংশের জন্য বিশেষায়িত শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা, তাপ সুরক্ষা, নিবিড় পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং সুবিধা। কিন্তু দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত স্ক্যানু/ এনআইসিইউ শয্যা, সিপ্যাপ সুবিধা, হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং সুবিধা, প্রশিক্ষিত নবজাতক স্বাস্থ্যকর্মী এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য নবজাতক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল হাসান, আশুলিয়া উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হসপিটালের একাডেমিক ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন, ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ এমদাদুল হক, প্রজন্ম রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনএফের ইলেক্ট প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. শরিফুন নাহার, আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া নবজাতক বিশেষজ্ঞ, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বিষয় : চিকিৎসা,

আপনার মতামত লিখুন

Search News BD

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে সুস্থ শিশুদের পাশাপাশি ছোট ও অসুস্থ শিশুদের বাঁচাতে হবে শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী তিন বছরের মধ্যে লন্ডনের জিপি মডেলের আদলে দেশে একটি শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এ পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এই স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর থাকবে রেফারেল সিস্টেম। ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসায় রোগী সুস্থ না হলে রোগীদের দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হবে।


প্রসূত মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যেন দৌড়াতে না হয়। প্রসূতি মা ও নবজাতকের সব ধরনের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কি-নোট উপস্থাপনায় বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুহারের বর্তমান চিত্র, প্রি-টার্ম বা অপরিণত শিশু জন্মের ক্রমবর্ধমান চাপ, এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সেবার সীমাবদ্ধতা, হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং ব্যবস্থার অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং সমন্বিত জরুরি নবজাতক রেফারেল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর একটি বড় অংশই নবজাতক। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবজাতক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক প্রি-টার্ম ও কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করে। তাদের একটি বড় অংশের জন্য বিশেষায়িত শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা, তাপ সুরক্ষা, নিবিড় পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং সুবিধা। কিন্তু দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত স্ক্যানু/ এনআইসিইউ শয্যা, সিপ্যাপ সুবিধা, হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং সুবিধা, প্রশিক্ষিত নবজাতক স্বাস্থ্যকর্মী এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য নবজাতক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল হাসান, আশুলিয়া উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হসপিটালের একাডেমিক ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন, ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ এমদাদুল হক, প্রজন্ম রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনএফের ইলেক্ট প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. শরিফুন নাহার, আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া নবজাতক বিশেষজ্ঞ, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


Search News BD

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক
নির্বাহী সম্পাদকঃ
শিমুল শিকদার

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার
0:00 / 0:00
1x