Search News BD

সারাদেশ

সরকারি নিবন্ধন পেয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ‘আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র

এডাব্লিউএস নিউজঃ দীর্ঘ ৩৫ বছরের মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন পরিচয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (Aisha Welfare Society)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধন পাওয়ার পর কেক কেটে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্‌যাপন করা হয় আজ ঢাকাস্থ উত্তরা এক রেস্তোরায়। নতুন এই পথচলায় দেশের নিম্ন আয়ের পরিবার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়েশা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ নামে পরিচিত ছিল। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে নতুন নামে নিবন্ধন লাভের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬। নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাইনুল হক। তাঁর নেতৃত্বে সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক ফজলে রাব্বী এবং সদস্য সাদিকুল ইসলাম, মেরিনা পারভীন, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক ও এ এম রবিউল ইসলাম। আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান মাইনুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এনজিও ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করার মাধ্যমে তিনি মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা, দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের সংকট সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি বড় একটি দায়িত্ব। আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্যও কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাইনুল হক  আরো বলেন, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যেতে চাই।  প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান, যিনি মেঘনা গ্রুপে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি। তিনি আরো বলেন, “তরুণ-তরুণী, নারী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাঁদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। আমরা চাই, মানুষ নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক।” নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়াও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অর্থ সম্পাদক ফজলে রাব্বী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “অনেক মানুষের কাজ করার আগ্রহ ও সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে তাঁরা এগিয়ে যেতে পারেন না। আমরা তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে চাই।” তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরিকল্পিত সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে প্রাপ্ত সহায়তা যথাযথভাবে উপকারভোগীদের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য মোঃ আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, আয়েশা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট হিসেবে পরিচিত থাকাকালীন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমার জন্য অনুপ্রেরণার।” তিনি আরো জানান, অতীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ, কোরবানির সময় মাংস বিতরণ, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা এবং করোনাকালীন সংকটে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ১৫ হাজারের বেশি সেলাই মেশিনসেট সারাদেশে বিতরণের কার্যক্রমের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে। বিশেষ করে অসহায় পরিবার, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের কল্যাণে আরও ভালো কাজ উপহার দিতে পারব।”আমরা এই প্রতিষ্ঠানের ৩৫ বছরের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সদস্য সাদিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ যাতে বেশি উপকৃত হন, সে লক্ষ্যে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মানুষের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁদের প্রত্যাশা। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করবো আমরা আশাকরি। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এ এম রবিউল ইসলাম ও মেরিনা পারভীনও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। নারী ও পরিবারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সহায়তা সম্প্রসারণ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও মানবকল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নতুন যাত্রায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। নতুন সাংগঠনিক কাঠামো, সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং মানবকল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে আইশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আগামী দিনে দেশের অসহায়, নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আরও বিস্তৃত পরিসরে দাঁড়াবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা, মানবতার সেবায়, মানুষের কল্যাণে-আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নতুন পথচলা।

সরকারি নিবন্ধন পেয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ‘আয়েশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র