Search News BD

স্বাস্থ্য ও জীবনাচরণ

জীবনের প্রশ্নে কোনো আপস নয়: রোগীর নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাহসী উদ্যোগকে অভিনন্দন

প্রেস রিলিজঃ দেশের স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা, রোগীর নিরাপত্তা এবং মানবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর সাম্প্রতিক সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে জনস্বার্থভিত্তিক সংগঠন ‘নিরাপদ ঔষধ চাই’। একই সঙ্গে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরীহ শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বিদেশি ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে প্রেরিত এক অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও সমর্থনপত্রে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালের ছয়জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরকার যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা দেশের স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। রোগীর জীবন নিয়ে অবহেলা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি কিংবা পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলে সংগঠনটি মনে করে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি সভ্য ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে বড় কোনো স্বার্থ হতে পারে না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি এবং কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানানো হয়।তবে সংগঠনটি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সেখানে অধ্যয়নরত নিরপরাধ শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও সনদ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।নিরাপদ ঔষধ চাই মনে করে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সুনামের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাই তাদের একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, প্রয়োজনে অন্যান্য স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।সংগঠনটি সরকারকে কয়েকটি সুপারিশও প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা, শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের জন্য বিশেষ সমন্বয় সেল গঠন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক সহায়তা ব্যবস্থা চালু এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।বিবৃতিতে বলা হয়, “আইন সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কাছে জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা কখনোই জিম্মি হতে পারে না। একইসঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রয়োগ এমন হতে হবে, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায়, কিন্তু নিরপরাধ শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ অযথা ক্ষতির শিকার না হন।”সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের স্বাস্থ্যখাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এগিয়ে যাবে।

জীবনের প্রশ্নে কোনো আপস নয়: রোগীর নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাহসী উদ্যোগকে অভিনন্দন