Search News BD

"পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক ২৮ নম্বর ওয়ার্ড গড়তে চাই"- উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় কাউন্সিলর প্রার্থী আশির শাহ মোঃ (অর্ক)

শিমুল শিকদারঃ নাগরিক সেবায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, স্বচ্ছ নেতৃত্বের অঙ্গীকার এবং উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের কাছে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আশির শাহ মোঃ (অর্ক) ।তাঁর বক্তব্য- জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ক্ষমতার আসন নয়; এটি মানুষের আস্থা, দায়িত্ব ও সেবার একটি পবিত্র অঙ্গীকার। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণা চললেও উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের পরিকল্পনা উপস্থাপন করায় আলোচনায় রয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আশির শাহ মোঃ (অর্ক)।তারুণ্যের আইকন ও বিলেত ফেরত আশির শাহ মোঃ (অর্ক) তিনি মনে করেন, একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন শুধু নতুন রাস্তা নির্মাণ বা ড্রেন সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি সত্যিকারের উন্নত ওয়ার্ড হবে এমন, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাচল করবে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করবে, দ্রুত নাগরিক সেবা পাবে এবং জনপ্রতিনিধির কাছে সহজেই নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে।আশির শাহ মোঃ (অর্ক) এর ভাষায়, "আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করতে চাই না। আমি কাজের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে জনগণের প্রতিটি সমস্যাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করব এবং সবার অংশগ্রহণে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তুলতে কাজ করব।" যা সারা বাংলাদেশের রোল মডেলে রূপান্তরিত হবে।নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে গুরুত্বঃ ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়, বিভিন্ন এলাকার মানুষের বক্তব্য এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কয়েকটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।তার পরিকল্পনায় রয়েছে- - দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন।- ভাঙাচোরা রাস্তা, অলিগলি ও ফুটপাত সংস্কারে উদ্যোগ।- পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত ওয়ার্ড গঠনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।- পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং নষ্ট বাতি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা।- মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ।- নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।- যুবসমাজের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা।- নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য সহজ যোগাযোগব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।- পার্ক, খেলার মাঠ ও সবুজায়ন বৃদ্ধিতে কাজ করার পরিকল্পনা।- উন্নয়নের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।'জনপ্রতিনিধি মানেই মানুষের দরজায় সেবা'আশির শাহ মোঃ (অর্ক) বলেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ ছোট ছোট নাগরিক সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। একজন কাউন্সিলরের দায়িত্ব হলো সেই সমস্যাগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করা।তিনি আরও বলেন, "আমার কাছে প্রতিটি নাগরিক সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মানুষের প্রয়োজনই হবে আমার কাজের মূল ভিত্তি। একজন প্রবীণের সমস্যাও যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন শিক্ষার্থী, একজন নারী, একজন শ্রমজীবী বা একজন ব্যবসায়ীর সমস্যাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।"স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি জানান, জনপ্রতিনিধির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সমস্যা শুনে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত রাখার চেষ্টা করবেন।তার মতে, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে- সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গুরুত্ব নিয়ে আশির শাহ মোঃ (অর্ক) মনে করেন, একটি উন্নত ওয়ার্ড গড়তে হলে শুধু অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নও জরুরি। তাই যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক উদ্যোগ ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।তিনি আরো বলেন,"যে ওয়ার্ডের তরুণরা ইতিবাচক কাজে যুক্ত থাকবে, সেই ওয়ার্ডই ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।"পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ হবে অন্যতম অগ্রাধিকার এর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে- পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ওয়ার্ড গঠনের লক্ষ্যে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মানুষের প্রত্যাশায়- স্থানীয় অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা, নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যেন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত জনগণের পাশে থাকেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দৃশ্যমান উন্নয়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন।আশির শাহ মোঃ (অর্ক) আরো বলেন, "২৮ নাম্বার ওয়ার্ডকে এমন একটি ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিকরা গর্ব করে বলবেন- এটি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও মানবিক ওয়ার্ড। উন্নয়নের এই যাত্রায় আমি একা নই; ওয়ার্ডবাসীর আস্থা, পরামর্শ ও অংশগ্রহণই হবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।"নাগরিক সেবা, জবাবদিহিতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ জীবনযাপন এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের যে রূপরেখা আশির শাহ মোঃ (অর্ক) তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে কতটা সফল হবেন- তার উত্তর দেবে সময়। তবে উন্নয়নকেন্দ্রিক এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক নাগরিকের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।