Search News BD

পদত্যাগের প্রস্তুতি কিয়ার স্টারমারের

বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চরম রাজনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষের মুখে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। রবিবার (১৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, স্টারমার ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, স্টারমার পদত্যাগ করবেন ‘নিজের শর্তে’। মন্ত্রিসভার এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করছেন। তাই মর্যাদা বজায় রেখে এবং নিজের পছন্দমতো সময়ে বিদায় নিতে চান তিনি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।লেবার সরকারের ওপর বাড়ছে চাপস্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার বর্তমানে বহুমুখী সংকটে রয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবি, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলেছে।বিশেষ করে Peter Mandelson-কে ঘিরে বিতর্ক এবং দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein-এর সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জের ঘোষণাপরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী Wes Streeting-এর পদত্যাগের পর। শনিবার তিনি ঘোষণা দেন, লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত।স্ট্রিটিং প্রকাশ্যে স্টারমারকে তার বিদায়ের ‘সময়সূচি’ নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান, যা দলীয় ভেতরের চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধসএদিকে জনমত জরিপেও স্টারমারের অবস্থান উদ্বেগজনক। ইউ গভ-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।জরিপে তাকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক তার পরিস্থিতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজা ট্র্যাস-এর মাত্র ৪৯ দিনের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের তুলনা করছেন।রিফর্ম ইউকের উত্থান নিয়ে উদ্বেগস্টারমারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় লেবার পার্টির অনেক এমপি আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে দলটির ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর সুযোগ নিতে পারে রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নিগাল ফ্র্যঞ্জ-এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে ডানপন্থী শক্তির উত্থান নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

পদত্যাগের প্রস্তুতি কিয়ার স্টারমারের