Search News BD

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবিতে ভুক্তভোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের সদস্য শ্যামল কুমার বিশ্বাস নামক এক প্রতারকের বিরুদ্ধে একাধিক মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ব তিমুরসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রতিশ্রুত চাকরি, ভিসা কিংবা বিদেশ গমনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, পিতাঃ গুরুপদ বিশ্বাস, মাতাঃ বকুল রানী, স্থায়ী ঠিকানাঃ গোপিনাথপুর, ২০ নং চন্দনপ্রতাপ, গাংনালিয়া, মাগুরা সদর, মাগুরা, (মোবাইল- ০১৭৮৫৭৬৪৪৭৬) বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ, দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া এবং আকর্ষণীয় বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তার আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকেই নিজেদের সঞ্চয়, জমি বিক্রির অর্থ কিংবা ধার-দেনা করে অর্থ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ প্রদানের পর বারবার সময়ক্ষেপণ, নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি এবং নানা ধরনের অজুহাত দেখানোর কারণে প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীদের একজন শিমুল শিকদার জানান, কয়েকজনের জন্য বিদেশে স্থায়ী চাকরির আশায় তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন। তাকে জানানো হয়েছিল যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবুও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান এই ভুক্তভোগী।আরেকজন অভিযোগকারী বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ উন্নতির আশায় বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি অর্থ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময়সীমা অতিক্রম করলেও বিদেশ যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার শুধু একজন বা দুজন নন; আরও একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি, বৈধ চুক্তিপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান করলে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।ভুক্তভোগীরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিদেশে চাকরির স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কোনো আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা অবশ্যই যাচাই করা উচিত।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীসহ প্রশাসন বলছে প্রতারক শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে ধরিয়ে  দিতে পারলে সন্ধানদাতাকে নগদ ১ লক্ষ টাকা পুরষ্কার প্রদান করা হবে।  ইতোমধ্যে গাজীপুর কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।বিঃ দ্রঃ আগামী সংখ্যায় এই অর্থলোভী প্রতারক শ্যামল কুমার বিশ্বাসের প্রতারণার স্বীকার ভুক্তভোগী অনেকের সাক্ষাতকার এবং তথ্য প্রমান প্রকাশ করা হবে। চলবে…  

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবিতে ভুক্তভোগীরা