উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
মোঃ আলাউদ্দিন, নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ ঝুঁকছে জিম ও ফিটনেস সংস্কৃতির দিকে। সুস্থ শরীর, আকর্ষণীয় ফিজিক ও দ্রুত মাসল তৈরির আশায় প্রতিদিন হাজার হাজার তরুণ ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, মাস গেইনার, ফ্যাট বার্নার, স্টেরয়েড ও ফুড সাপ্লিমেন্ট।কিন্তু ভয়ংকর বাস্তবতা হলো—এই বিশাল বাজারের একটি বড় অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে নকল, অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের সাপ্লিমেন্ট সিন্ডিকেট।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী “ফেক সাপ্লিমেন্ট নেটওয়ার্ক”, যেখানে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছে নকল প্রোটিন ও ক্ষতিকর পণ্য।কোথা থেকে আসে নকল প্রোটিন?সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিদেশি ব্র্যান্ডের খালি কৌটা সংগ্রহ করে সেগুলোতে নিম্নমানের পাউডার ভরে বাজারজাত করছে। আবার কিছু পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে, যেগুলোর নেই কোনো অনুমোদন বা মান নিয়ন্ত্রণ।বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নিম্নমানের কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে প্যাকেটজাত করে “আমেরিকান ব্র্যান্ড” হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে ফেসবুক পেজ, টিকটক লাইভ ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পণ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।“অরিজিনাল” নামের আড়ালে প্রতারণাঅনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার ফলোয়ার ও সাজানো রিভিউ ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করা হচ্ছে।ফেসবুকে “১০০% অরিজিনাল”, “ইমপোর্টেড”, “জিম ট্রেইনার রেকমেন্ডেড” — এমন নানা দাবিতে বিক্রি হচ্ছে সাপ্লিমেন্ট।কিন্তু বাস্তবে অনেক পণ্যের নেই—সঠিক আমদানিকারক তথ্য, অনুমোদিত লেবেল, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন তারিখের সত্যতা, মান পরীক্ষার নিশ্চয়তা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ আসল ও নকল পার্থক্য বুঝতে না পারায় সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।জিম ট্রেইনারদের মতামতকিছু জিম ট্রেইনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সদস্য দ্রুত শরীর গঠনের জন্য কম দামের সাপ্লিমেন্ট খোঁজেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু বিক্রেতা নকল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।একজন ট্রেইনার বলেন, “অনেকে শুধু ইউটিউব বা ফেসবুক দেখে সাপ্লিমেন্ট কিনে ফেলেন। পরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।”আরেকজন ট্রেইনার জানান, "কিছু সদস্য স্টেরয়েড বা ইনজেকশন নিতে আগ্রহ দেখান দ্রুত ফল পাওয়ার আশায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।”কিডনি ও লিভার জটিলতা বাড়ছেচিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত সাপ্লিমেন্ট ও স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে তরুণদের মধ্যে কিডনি সমস্যা, লিভার ড্যামেজ, হরমোন ভারসাম্যহীনতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে।একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন,“হারবাল বা প্রোটিন লেখা থাকলেই সেটি নিরাপদ— এমন ধারণা ভুল। অনেক সময় এসব পণ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা অননুমোদিত উপাদান থাকে।” তিনি আরও জানান, কিছু রোগী দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পর জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।আমদানির ফাঁকফোকর ও নজরদারির দুর্বলতাসচেতন মহলের মতে, সাপ্লিমেন্ট আমদানি ও অনলাইন বিক্রির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব থাকায় এই বাজার দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। অনেক অনলাইন পেজ ও বিক্রেতা কোনো বৈধতা ছাড়াই স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রি করছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ মনিটরিং, মান পরীক্ষা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।কীভাবে সচেতন হবেন?বিশেষজ্ঞদের পরামর্শঃ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ নয়, অস্বাভাবিক কম দামের পণ্য এড়িয়ে চলুন, অনুমোদিত বিক্রেতা থেকে পণ্য কিনুন, লেবেল, ব্যাচ নম্বর ও আমদানিকারকের তথ্য যাচাই করুন, অনলাইনের ভুয়া রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সচেতনতা তৈরি না হলে ভবিষ্যতে “নকল সাপ্লিমেন্ট সংকট” বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।নিরাপদ ঔষধ চাই আন্দোলনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংগঠন এবং সচেতনতা, নিরাপদ স্বাস্থ্য ও ভেজালবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন “নিরাপদ ঔষধ চাই” এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ জানান, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই সাপ্লিমেন্টারী গুলো নকল ও ভেজাল তৈরী করে বাজারে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা বিক্রি করে। একদিকে এগুলো নিম্নমানের সাপ্লিমেন্টারী খেয়ে অনেকেই উপকারের পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যেমে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাবো।